মোঃ জুনায়েদ হোসেন জুয়েল,
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দলীয় সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় আবু মিয়া (৩৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাবেক সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বকুলকে দলীয় পদসহ বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান প্রেস বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গত ১ আগস্ট ভুক্তভোগীর একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট চিকিৎসা পরীক্ষায় সে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানতে পারে পরিবার। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা মঙ্গলবার রাতে বকুলসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।
মামলাটি ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলায় গ্রেপ্তার আবু মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি বকুলসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

Leave a Reply