1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
নীলফামারীতে মাছ ধরতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু মোহাম্মদপুরে কৃষি প্রনোদনা বিতরণ নিজ মাতৃভূমিতেই আমরা কেন নিরাপদ নই?নিরাপত্তাহীনতার বেদনায় রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের আত্মজিজ্ঞাসা রাণীনগর ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত কাশিয়ানীতে ‘স্বপ্নছোঁয়া’ ফ্যাশন হাউজে আলফাডাঙ্গা’র গণমাধ্যমকর্মীদের আড্ডা ও কেনাকাটা এম.এ খালেক মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সরদার মোঃ নুরুজ্জামান মোরেলগঞ্জে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ অনুষ্ঠিত কাশিয়ানীর মহেশপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু। মহাম্মদপুর বিএনপি’র একাংশের বিভিন্ন দপ্তরের চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ। মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব—তবু কখনো কেন পশুকেও হার মানায়?

মালখানগর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ, শিক্ষকদের ক্ষোভ!

  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২০৩ বার পড়েছেন

স্টাফ রিপোর্টর: মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার
তারিখ-০২/০৪/২০২৬ইং।

মুন্সীগঞ্জের শিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ডিগ্রী কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মহব্বত সাইফুল্লাহ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ উঠেছে। কলেজের শিক্ষকরা এই বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করছেন এবং শিক্ষক পরিষদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর ফলে শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন যে, অধ্যক্ষ শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করছেন, সিনিয়র শিক্ষকদের উপেক্ষা করছেন এবং নিজের ঘনিষ্ঠ জুনিয়রদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাচ্ছেন। বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে।

বিশেষ করে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অস্বাভাবিক বিল গ্রহণ এবং তদারকি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। কলেজের নিজস্ব কম্পিউটার ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন হলেও বাইরে কাজ করানোর নামে অতিরিক্ত বিল দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

অডিট সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ড থেকে ফেরত আসা অর্থ শিক্ষার্থীদের না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারি অডিটেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আপত্তি উঠেছিল এবং তাকে সরকারি কোষাগারে অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নিজের অনুগত জুনিয়রদের প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন কমিটি গঠনের অভিযোগও উঠেছে। এতে শিক্ষক সমাজে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক অনিয়মের মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলেও এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, মোঃ মহব্বত সাইফুল্লাহ ৫ই আগস্ট পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ৬ মাসের মধ্যে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে হবে, কিন্তু তিনি নিয়ম অমান্য করে নতুন করে ৬ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন।

১ বছরের মধ্যে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ না দিলে তার স্বাক্ষরকৃত কাগজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করবে না। যদিও কলেজের প্রভাষকরা তার অপসারণের জন্য আবেদন করেছিলেন, গভর্নিং বডির সভাপতি তা উপেক্ষা করে পুনরায় মোঃ মহব্বতকে নিয়োগ দেন। এই নিয়মবহির্ভূত কাজ গভর্নিং বডির বেশিরভাগ সদস্য গ্রহণ করেননি এবং শিক্ষক সমাজে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষকরা অধ্যক্ষের অধীনে দায়িত্ব পালন করতে অসন্তোষ প্রকাশ করে অনাস্থা জানিয়েছেন এবং বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গভর্নিং বডির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কলেজ সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমান অধ্যক্ষ কারিগরি শাখায় নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে অসাধু উপায়ে জেনারেল শাখায় এমপিওভুক্ত হয়েছেন। সরকারি অডিটে প্রতিবার ধরা খান এবং সরকারি অর্থ ফেরত দিতে বললে নানান তালবাহানা করে এখনো চাকরি করে যাচ্ছেন।

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গভর্নিং বডির কোনো ক্ষমতাধর সদস্যের ইশারায় তিনি এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। গভর্নিং বডির অধিকাংশ সদস্য, কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক ও এলাকার সচেতন মানুষের এমনটাই প্রশ্ন?

মালখানগর কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এম এ আবু সাঈদ বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। কমিটির তিনজন সদস্য একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি তদন্তের উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো জমা হয়নি, তবে একটি খসড়া প্রতিবেদন হাতে এসেছে। ওই খসড়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সভাপতি আরও বলেন, তার সঙ্গে অধ্যক্ষের নিয়মিত কাজকর্ম, কাগজপত্র ও প্রশাসনিক বিষয়ে যোগাযোগ হয় এবং সেখানে তিনি কোনো অনিয়ম খুঁজে পাননি। তদন্ত শেষে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেটি চূড়ান্ত করে শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজ সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও পূর্বশর্ত অনুযায়ী, যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন প্রিন্সিপাল নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন ‘ভারপ্রাপ্ত অনুমোদিত প্রিন্সিপাল’ থাকতে হবে। এটি একটি বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্তমানে আমাদের প্রতিষ্ঠান এই শর্তটি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, যা আমাদের ডিসকোয়ালিফাইড বা অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে।

অনুমোদিত ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল না থাকলে আমরা নতুন নিয়োগের জন্য আবেদনই করতে পারব না। যখন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং আমরা আবেদন করব, তখন ডিসি অফিস, টিএনও এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কমিটি কঠোরভাবে যাচাই করবেন যে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান অনুমোদিত কি না। যদি তিনি অনুমোদিত না হন, তবে কোনোভাবেই নতুন প্রিন্সিপাল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে না।

দুঃখজনক বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বিভিন্ন মহলের দোহাই দিয়ে বিষয়টি জটিল করে তুলছেন। তিনি একজন অননুমোদিত ব্যক্তিকে আরও ৬ মাস বা এক বছর এই পদে বহাল রাখতে চাইছেন, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।

যেখানে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধানেরই আইনি বৈধতা বা অনুমোদন নেই, সেখানে তাকে রেখে কীভাবে নতুন প্রিন্সিপাল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে?

এ ব্যপারে অভিযুক্ত কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মহব্বত সাইফুল্লাহ ভূঁইয়ার ফোনে ফোন করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি ক্লাসে আছি। আধাঘন্টা পরে কল দিচ্ছি। কিন্তু পরে তিনি আর যোগাযোগ করেন নি।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি!

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর