হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম: ১৭-০৫-২০২৬
ভালোবাসার টানে সুদূর চীন থেকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আন হুং ওয়েই (৩৯) নামের এক চীনা নাগরিক। মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কের পর ঢাকায় থাকা গার্মেন্টস কর্মী তরুণী মোর্শেদা খাতুন (২৪) এর আকর্ষণে চলে এসেছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে।
রোববার (১৭ মে) সকালে বিদেশি জামাই কুড়িগ্রামে, এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে শনিবার (১৬ মে) ওই যুবক প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে আসলে উৎসুক জনতার ভীড় বাড়তে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধর্মপুর কালিয়াটারি গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেন ও সাহেরা বেগম দম্পতির মেয়ে এক সন্তানের জননী মোর্শেদা খাতুন। এটি তার দ্বিতীয় বিবাহ। মোর্শেদা খাতুন ঢাকার সাভারে গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে চীনা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আন হুং ওয়েই এর সাথে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল অনলাইন এ্যাপসের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে। বিষয়টি পরে নিবিড় সম্পর্কের দিকে চলে যায়। পরবর্তীতে চীন থেকে ঢাকায় এসে চীনা যুবক আন হুং ওয়েই মোর্শেদাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ৯ মে ঢাকার একটি আদালতে কোর্ট ম্যারেজে আবদ্ধ হন। পরে ওই চীনা যুবকসহ মোর্শেদা খাতুন শনিবার (১৬ মে) রাতে ধর্মপুর গ্রামে আসলে রোববার সকালে তার মামা শফিকুলের নিজ বাড়ী উপজেলার ধর্মপুর কালিয়টারী গ্রামে নিয়ে আসেন। এ খবর ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় নারীপুরুষ চীনা যুবককে এক নজর দেখার জন্য ওই বাড়িতে ভীড় ভীড় জমান।স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর শনিবার প্রথমবারের মতো ওই যুবক তাদের বাড়ীতে আসেন। এ সময় তিনি নিজেকে চীনের নাগরিক ও এই পরিবারের মেয়ে জামাই হিসেবে পরিচয় দেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
বর্তমানে তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। ওই দম্পতি আগামী ৩০শে মে চীনে যাবেন বলে জানা যায়। চীনা যুবক ওই দেশের ঝাওঝেন, দাতুন টাউন, ডংমিং কাউন্টি প্রদেশ শান ডং নং ০৮৮, ঝাও ঝেন তুন গ্রামের মিস্টার আনজিফাং ও মিসেস মেং ফেং জিয়াও দম্পতির পাঁচ মেয়ে দুই ছেলের মধ্যে সবার ছোট বলে জানা গেছে।
চীনা যুবক আন হুং ওয়েই জানান, তিনি একজন মুসলমান চীনা নাগরিক। মোর্শেদার সঙ্গে অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচয়ের পর আমাদের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়।

তাঁকে আমার পরিবারের সঙ্গে অনলাইনে পরিচয় করে দিয়েছি। আমি তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাই। সে আমার সাথে সম্মান নিয়ে ভালো থাকবে।
মোর্শেদা খাতুন জানায়, আমার স্বামী একজন খুবই ভালো মনের মানুষ। তার সঙ্গে আমি সুখে থাকবো।
কাশিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলম জানান, বিষয়টি আমি শুনে নিজেও দেখতে এসেছি। দুজনের সাথে কথা বলে ভীষণ ভালো লাগল।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, প্রেমের সম্পর্কের টানে চায়না যুবক ফুলবাড়ীর কাশিপুরে এসেছে বলে বিষয়টি জেনেছি।

Leave a Reply