সংবাদদাতা: মাশরাফি সিকদার, মাগুরা
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় সরকারি খালের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মাছি নাগড়া একতা ব্রিকসের বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটাটিতে কাঠ ও গাছ পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করায় পরিবেশ দূষণ, ফসলি জমির ক্ষতি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাছি নাগড়া এলাকায় অবস্থিত একতা ব্রিকস দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করে আসছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটাটিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা উপেক্ষা করে গাছ ও কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে আশেপাশের এলাকায় ধোঁয়া ও কালো ছাই ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে নিকটবর্তী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা।

এলাকাবাসী আরও জানান, ইটভাটার কারণে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ ও ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভাটার মালিক হালিম মাটি চুরি করে কাটার বিষয়ে স্বীকার করে বলেন আমরা সামন্য কিছু মাটি সরকারি খাল থেকে কেটেছি। এছাড়া ভাটায় গাছ দিয়ে ইট পুড়ানোর বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহানুর জামান জানান, সরকারি খালের মাটি কাটার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply