1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মোহাম্মদপুরে কৃষি প্রনোদনা বিতরণ নিজ মাতৃভূমিতেই আমরা কেন নিরাপদ নই?নিরাপত্তাহীনতার বেদনায় রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের আত্মজিজ্ঞাসা রাণীনগর ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত কাশিয়ানীতে ‘স্বপ্নছোঁয়া’ ফ্যাশন হাউজে আলফাডাঙ্গা’র গণমাধ্যমকর্মীদের আড্ডা ও কেনাকাটা এম.এ খালেক মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সরদার মোঃ নুরুজ্জামান মোরেলগঞ্জে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ অনুষ্ঠিত কাশিয়ানীর মহেশপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু। মহাম্মদপুর বিএনপি’র একাংশের বিভিন্ন দপ্তরের চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ। মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব—তবু কখনো কেন পশুকেও হার মানায়? দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের ট্রেনের যাত্রাবিরতি; উচ্ছ্বসিত মহেশপুর-কাশিয়ানীর মানুষ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নজরে খাল কাটার মহাপরিকল্পনায় স্বচ্ছতা ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত হোক

  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়েছেন

লেখক ~ কলামিস্ট
মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষি, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনযাত্রা শত শত নদী, খাল, বিল ও জলাধারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একসময় গ্রামের খাল ছিল নৌযাত্রার পথ, কৃষকের সেচের ভরসা, জেলের জীবিকা এবং বর্ষার অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা। কিন্তু দখল, ভরাট, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় দেশের অসংখ্য খাল আজ মৃতপ্রায়। ফলে একদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট, অন্যদিকে বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা—দুই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।


এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকারের আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখননের বৃহৎ কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ১২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে একযোগে ৫৪টি জেলায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কৃষি, সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ রক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনর্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই—এত বড় প্রকল্পের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ওপর।
আমাদের দেশে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বহু সময় দুর্নীতি, অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে। অনেক সময় কাগজে-কলমে খাল কাটা হয়, অথচ বাস্তবে মানুষ তার সুফল পায় না। কোথাও খালের দৈর্ঘ্য কমানো হয়, কোথাও গভীরতা ঠিক রাখা হয় না, কোথাও আবার কয়েক মাসের মধ্যেই খাল ভরাট হয়ে যায়। ফলে জনগণের টাকায় করা উন্নয়ন জনগণের জীবন বদলাতে ব্যর্থ হয়।
এই কারণেই খাল কাটার এই বিশাল কর্মসূচির প্রতিটি তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা সময়ের দাবি। প্রতিটি প্রকল্পের টেন্ডার, বাজেট, সিডিউল, ম্যাপ, খালের অবস্থান, কোথা থেকে কোথা পর্যন্ত খনন হবে, কত কিলোমিটার দৈর্ঘ্য, কত ফুট প্রশস্ত ও কত গভীর হবে—এসব তথ্য সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ, ব্যয়, ঠিকাদারের নাম এবং কাজের ধরনও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন।


বিশেষ করে প্রতিটি খালের বিভিন্ন স্থানে বড় সাইনবোর্ড টানিয়ে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যাতে একজন সাধারণ কৃষক, শ্রমিক কিংবা পথচারীও বুঝতে পারেন—এখানে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কী কাজ হওয়ার কথা এবং কত দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এটি শুধু তথ্য প্রদর্শন নয়, বরং দুর্নীতি প্রতিরোধের একটি কার্যকর সামাজিক নজরদারি ব্যবস্থা।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—খাল কাটার পদ্ধতি। কাজ কি শ্রমিক দিয়ে হবে, নাকি ভেকু বা ড্রেজার মেশিন দিয়ে করা হবে—সেটিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। কারণ শ্রমিক দিয়ে খাল কাটার ক্ষেত্রে হাজার হাজার দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় গ্রামের অসংখ্য মানুষ বেকারত্ব ও অভাবের সঙ্গে লড়াই করছে। তাদের হাতে যদি কাজ তুলে দেওয়া যায়, তাহলে এই প্রকল্প শুধু পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নই করবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করাও প্রয়োজন হতে পারে। বড় খাল বা গভীর জলাধার পুনঃখননে ভেকু বা ড্রেজার ব্যবহার সময় ও শ্রম বাঁচাতে পারে। তাই কোন স্থানে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যাও জনগণের সামনে থাকা দরকার। স্বচ্ছতা মানে শুধু হিসাব দেওয়া নয়; সিদ্ধান্ত গ্রহণের যুক্তিও মানুষের কাছে পরিষ্কার করা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কাজ শেষ হওয়ার পরও যেন প্রকল্পের তথ্য হারিয়ে না যায়। এজন্য প্রতিটি খালের পাশে স্থায়ী ফলক বা তথ্যফলক স্থাপন করা যেতে পারে। সেখানে উল্লেখ থাকবে খালের নাম, খননের সাল, প্রকল্প ব্যয়, দৈর্ঘ্য, গভীরতা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও জানতে পারবে কোন উদ্যোগে খালটি পুনর্জীবন পেয়েছিল।
একটি উন্নয়ন প্রকল্প তখনই সফল হয়, যখন জনগণ সেটিকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে মনে করে। জনগণকে তথ্য থেকে দূরে রেখে কখনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরং জনগণের অংশগ্রহণ, সামাজিক নজরদারি এবং উন্মুক্ত তথ্যই একটি প্রকল্পকে সফল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে পারে।


বাংলাদেশের খাল, নদী ও জলাধার শুধু পানির উৎস নয়; এগুলো এই দেশের প্রাণ, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের অংশ। তাই খাল কাটার এই মহাপরিকল্পনা যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা কাগুজে উন্নয়ন হয়ে না থাকে। এটি যেন সত্যিকার অর্থে কৃষকের জমিতে পানি পৌঁছে দেয়, বন্যা কমায়, জেলেদের জীবিকা ফিরিয়ে দেয় এবং গ্রামের অর্থনীতিকে পুনর্জীবিত করে—সেই প্রত্যাশাই আজ দেশের মানুষের।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে বিনীত অনুরোধ—এই বিশাল কর্মসূচিকে শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলুন। জনগণের টাকায় জনগণের কাজ—তাই জনগণের সামনে সব তথ্য উন্মুক্ত থাকুক। তাহলেই উন্নয়ন হবে দৃশ্যমান, টেকসই এবং সত্যিকার অর্থে জনমুখী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর