মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি।
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী, বাদুরা নতুন বাজারে বর্তমানে ধানের তুষ কেনাবেচা নিয়ে বেশ সরগরম অবস্থা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় গৃহস্থদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ধানের তুষ কিনছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী আঃ হকিম প্রতিমন ৪০০ টাকা দরে তুষ ক্রয় করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশপাশের গ্রাম থেকে কৃষক ও গৃহস্থরা তাদের ঘরে থাকা ধানের তুষ বাজারে এনে বিক্রি করছেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকের কিছু অতিরিক্ত আয় হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও এই তুষ সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন।
ব্যবসায়ী আঃ হকিম জানান, তিনি প্রতিমন ৪০০ টাকা দরে তুষ কিনে খুলনার মহাজনদের কাছে বিক্রি করেন। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মণে প্রায় ৫০ টাকা লাভ থাকে। তিনি আরও জানান, বাদুরা নতুন বাজার থেকে প্রতিদিন শত শত মন ধানের তুষ সংগ্রহ করে ট্রাকে করে খুলনার বিভিন্ন মহাজনের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

ধানের তুষ বা রাইস হাস্ক (Rice Husk) ধান থেকে চাল উৎপাদনের সময় পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক উপজাত পণ্য। আগে এটি অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত থাকলেও বর্তমানে এর বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
ধানের তুষ মূলত বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। শিল্প-কারখানা ও ইটভাটায় এটি জ্বালানি হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক জায়গায় তুষ থেকে তৈরি হচ্ছে রাইস হাশ পেলেট, যা বয়লার চালানোর জন্য কার্যকর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও তুষের ব্যবহার রয়েছে। অনেক কৃষক তুষকে জৈবসার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করেন, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ধানের তুষ দিয়ে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রীও তৈরি হচ্ছে। তুষ থেকে তৈরি হচ্ছে রাইস ব্লক বা বিশেষ ধরনের ইট, যা দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব। পাশাপাশি তুষ থেকে সিলিকা উৎপাদনও করা হয়, যা বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ধানের তুষের ব্যবসা তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগে শুরু করা যায় এবং বাজারে এর চাহিদাও সবসময় থাকে। স্থানীয়ভাবে সহজে সংগ্রহ করা যায় বলে অনেকেই এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

ধানের তুষের ব্যবসা সাধারণত দুইভাবে পরিচালিত হয়। কেউ পাইকারি আকারে বড় রাইস মিল বা চালকল থেকে তুষ কিনে ইটভাটা, শিল্প-কারখানা বা বড় খামারে সরবরাহ করেন। আবার কেউ খুচরা আকারে স্থানীয় পোল্ট্রি ফার্ম বা ছোট খামারিদের কাছে বিক্রি করেন। বর্তমানে আধুনিক পেলেট মেশিন ব্যবহার করে তুষকে ছোট পেলেটে রূপান্তর করে বেশি দামে বিক্রির ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বাজারের চাহিদা ও পরিবহন খরচ ঠিকভাবে যাচাই করে ধানের তুষের ব্যবসা শুরু করলে এটি একটি লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হতে পারে।
আজ শুক্রবার দুপুরে বাদুরা নতুন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন স্থানে তুষের বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা সেগুলো ওজন করে কিনছেন। স্থানীয়দের মতে, মৌসুমভিত্তিক এই তুষ বাণিজ্য এলাকার ক্ষুদ্র অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব।

Leave a Reply