হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম
মাদক, দুর্নীতি ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রত্যয়ে কুড়িগ্রামে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মূল আলোচনা ও সভাপতিত্ব
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
সভায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন:
সংসদ সদস্যবৃন্দ: আনোয়ার হোসেন (কুড়িগ্রাম-১), আতিক মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২), ব্যারিস্টার মাহাবুবুল আলম সালেহী (কুড়িগ্রাম-৩) এবং মোস্তাফিজুর রহমান (কুড়িগ্রাম-৪)।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বী, সেনাবাহিনী কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইনজামুল আলম এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান।
অন্যান্য প্রতিনিধি: জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফাফিজার রহমান, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহাবুবুল আলম সালেহী বলেন:
”সরকারি সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।”
তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রশাসনের অবস্থান
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা জেলাকে নিরাপদ রাখব।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সভায় বক্তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সুশীল সমাজের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মাদক ও অপরাধ দমনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
Leave a Reply