মোহাম্মদ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে আনন্দমিছিল করেছে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা। রোববার (১৬ আগস্ট) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাবেক বিডিআর সদস্য ও তাঁদের পরিবারের লোকজনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
আনন্দমিছিলটি বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ২০০৯ সালের পিলখানা ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ও চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ন্যায়বিচার, চাকরিতে পুনর্বহাল, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং হারানো সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলে ধরা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিডিআর কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা ঘটনার পর বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও চাকরিচ্যুত অনেক বিডিআর সদস্য এবং তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনেকের প্রত্যাশিত প্রতিকার ও ন্যায়বিচার এখনো নিশ্চিত হয়নি।
তারা বলেন, চাকরি হারানো, মামলা, কারাবাস ও আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনেক সদস্য মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ফলে বিষয়টি শুধু একটি সংগঠনের দাবি নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আনন্দমিছিল থেকে বক্তারা ২০০৯ সালের পিলখানা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে যেসব সাবেক বিডিআর সদস্যকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন, তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিডিআর কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্য ও তাঁদের পরিবারের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের জন্য দায়িত্ব পালন করা সাবেক বিডিআর সদস্যদের মধ্যে যারা প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে আইন ও নীতিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের একটি জটিলতার সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
কর্মসূচিতে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সুবেদার গৌরাঙ্গ চন্দ্র দাস, হাবিলদার লতিফ, নায়েক হাবিব, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক নাজমুল আলম, কোষাধ্যক্ষ কাদির, দপ্তর সম্পাদক সেলিমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিডিআর সদস্য ও তাঁদের পরিবারের লোকজনও আনন্দমিছিলে অংশ নেন।
আনন্দমিছিল শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো সরকারের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। তাঁদের প্রত্যাশা, ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্য ও তাঁদের পরিবারের দুর্ভোগের অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply