মানোয়ার হোসেন (রাজু),সংবাদদাতা গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাবলিক হল রোড এলাকায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান সোহেল ও শিক্ষিকা শাহীন আরার পরিবারে নৃশংস সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে সংঘটিত এই হামলায় পরিবারের সদস্যসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন মোল্লা গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছে পুরো পরিবারটি।
হামলার বিবরণ
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টা ২৮ মিনিটে ৮-৯ জনের একদল অজ্ঞাত সশস্ত্র সন্ত্রাসী ২-৩টি মোটরসাইকেলে করে এসে পাবলিক হল রোডের ১৭৫ নম্বর বাসভবনের প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সন্ত্রাসীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আহতদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
হামলায় পরিবারের প্রায় সকল সদস্যই জখম হয়েছেন:
শিক্ষিকা শাহীন আরা (৪৪): নাক, ঠোঁট এবং বাম হাতে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন।
ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান সোহেল (৪৪): ঘাড় ও ডান হাতে গুরুতর চোট পেয়েছেন।
জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (১৭): বাম চোখে রক্তপাতজনিত গুরুতর জখম।
সালেহ হাসান রায়ান (১১): পিঠ ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন মোল্লা: তিনিও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি।
হামলাকারীরা শুধু মারধরই করেনি, তারা ঘরের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী ভাঙচুর করে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
অব্যাহত হুমকি ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার পর আহতদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। উল্টো অভিযোগ করার পর থেকে সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফোনে বারবার কল করে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
”আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে আমরা নিজ বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই।”
— ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান সোহেল ও শিক্ষিকা শাহীন আরা
প্রশাসনের প্রতি আবেদন
ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের কাছে এই হামলার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে।
Leave a Reply