সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় গভীর রাতে একটি দোকান, বসতঘর ও গোয়ালঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এতে আসবাবপত্র, নগদ টাকাসহ প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটের দিকে সদর উপজেলার দহাকুলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা (৫৬) বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোলাম মোস্তফার বাড়ির সঙ্গেই তার মুদি দোকান, বসতঘর ও গোয়ালঘর অবস্থিত। গভীর রাতে আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙে গেলে তারা বাইরে এসে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে পানি ও বালু দিয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে দোকানঘর ও ঘরের ভেতরের মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
যা বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন হোসেন বলেন, “গভীর রাতে চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখি মোস্তফার দোকানে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আমরা দ্রুত পানি ও বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি।”
আরেক বাসিন্দা ফয়জুল হোসেন জানান, আগুনের ভয়াবহতা দেখে এটি স্বাভাবিক দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। স্থানীয়দের ধারণা, কেউ পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রতিবেশী আজগার আলী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “গোলাম মোস্তফা একজন পরিশ্রমী মানুষ। এই ছোট দোকানটিই ছিল তার সংসারের আয়ের প্রধান উৎস।”
ভুক্তভোগী পরিবারের আহাজারি
ভুক্তভোগীর স্ত্রী আনোয়ারা পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আগুনের তাপে ঘুম ভাঙতেই দেখি সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। দোকানের মালামাল, টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা—সব পুড়ে গেছে। এখন আমরা কীভাবে সংসার চালাবো?”
ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমার কারো সাথে কোনো শত্রুতা নেই। কেন আমার এত বড় ক্ষতি করা হলো জানি না। আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাঃ মাসুদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply