1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব—তবু কখনো কেন পশুকেও হার মানায়? দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের ট্রেনের যাত্রাবিরতি; উচ্ছ্বসিত মহেশপুর-কাশিয়ানীর মানুষ কুড়িগ্রামে ৪টি বিদ্যালয়ে ফল বিপর্যয়, সবাই ফেল কুড়িগ্রামের উলিপুরে স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোরেলগঞ্জে ১০ জান গ্রেপ্তার দিনমজুর বাবার সাথে কৃষি জমিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটেজিপিএ-৫ পেল কুড়িগ্রামের পলাশ চন্দ্র রায় ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ তারাগঞ্জবাসী কুড়িগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশী যুবককে আটক বিএসএফ’র কিশোরগঞ্জে পৈত্রিক জমিতে হামলার অভিযোগ, যুবককে কুপিয়ে জখম মোরেলগঞ্জে নারীসহ চার মাদককারবারিকে অর্থদন্ডসহ কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জে শিক্ষকের ভুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীর জীবন থেকে হারাল এক বছর!!

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ৮২ বার পড়েছেন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জ জেলা স্মরণী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীর জীবনে নেমে এসেছে চরম হতাশা। একটি ভুল তারিখ লেখার ঘটনায় পরীক্ষার সুযোগ হারিয়ে বসেছে ছাত্রী শারমিন আক্তার মনি (ভোকেশনাল সেশন–২০২৩, রোল: ৭৫০৩১৪, রেজি: ২৭০১৫৯৭৬৭৭)। ঘটনাটি এখন শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত এই পরীক্ষার্থীর দুটি বিষয়ে অংশ নেওয়ার কথা ছিল—গণিত ও ট্রেড–১। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক মিনহাস স্যার ছাত্রীটির এডমিট কার্ডের পেছনে ট্রেড–১ পরীক্ষার তারিখ লিখে দেন ১২ মে ২০২৬। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয় ৭ মে ২০২৬ তারিখে।


শিক্ষকের লিখে দেওয়া তারিখকে সঠিক ধরে ১২ মে পরীক্ষার দিন ভেবে শারমিন আক্তার মনি কিশোরগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে গেলে জানতে পারেন—তার ট্রেড–১ পরীক্ষা পাঁচ দিন আগেই শেষ হয়ে গেছে। জানা যায়, পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল কিশোরগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ৪র্থ তলার ৪০০২ নম্বর কক্ষ।
বিষয়টি জানার পর কেন্দ্রেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তখন তাকে নিজ বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ছাত্রীটি অভিভাবকসহ বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকরা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে কিছু করা যায় কি না—এমন আশ্বাস দেন। কিন্তু ততক্ষণে পরীক্ষার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে।
ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন শারমিন আক্তার মনি। পরিবারের দাবি, এবার পরীক্ষা দিতে পারলে সে পাস করতে পারত। একটি ভুল তথ্য তার জীবনের একটি মূল্যবান বছর কেড়ে নিল।
অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়কে জানানো নিয়ম। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ জানান, নিয়ম অনুযায়ী তিনি ডিউটিতে থাকা জেলা স্মরণী বালিকা বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক—মিনহাস ও রফিকুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্যামেলিয়া জাহান দাবি করেন, কেন্দ্র থেকে ছাত্রী অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে তাকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে—দায় কার? শিক্ষকের ভুল তারিখ লেখা, কেন্দ্রের অবহেলা, নাকি বিদ্যালয়ের সমন্বয়হীনতা—কোনটি এই ঘটনার মূল কারণ?
ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকের গাফিলতির কারণেই তার মেয়ের জীবনের একটি বছর নষ্ট হয়েছে। তবে বিদ্যালয় থেকে আগামী বছর পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।


এদিকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার মনির বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক মিনহাসের সঙ্গে কথা বলতে সাংবাদিকরা বিদ্যালয়ে গেলেও তিনি দেখা করতে বা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একটি ভুল তারিখ, একটি অবহেলা—আর একটি শিক্ষার্থীর জীবনের এক বছর হারিয়ে যাওয়া। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর