1. admin@deshbanglakhabor.com : admin :
  2. e.mominbd@gmail.com : MOMIN :
  3. samira01606@gmail.com : SAMIRA : Sumaya Samira
  4. farhanaenterprise18@gmail.com : SHOFIKUL :
       
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের ট্রেনের যাত্রাবিরতি; উচ্ছ্বসিত মহেশপুর-কাশিয়ানীর মানুষ কুড়িগ্রামে ৪টি বিদ্যালয়ে ফল বিপর্যয়, সবাই ফেল কুড়িগ্রামের উলিপুরে স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোরেলগঞ্জে ১০ জান গ্রেপ্তার দিনমজুর বাবার সাথে কৃষি জমিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটেজিপিএ-৫ পেল কুড়িগ্রামের পলাশ চন্দ্র রায় ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ তারাগঞ্জবাসী কুড়িগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশী যুবককে আটক বিএসএফ’র কিশোরগঞ্জে পৈত্রিক জমিতে হামলার অভিযোগ, যুবককে কুপিয়ে জখম মোরেলগঞ্জে নারীসহ চার মাদককারবারিকে অর্থদন্ডসহ কারাদণ্ড খুলনায় জলবায়ু অভিবাসন কেন্দ্রের পরিচালন নির্দেশিকা প্রণয়নে যৌথ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দিনমজুর বাবার সাথে কৃষি জমিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটেজিপিএ-৫ পেল কুড়িগ্রামের পলাশ চন্দ্র রায়

  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার পড়েছেন

হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম: ১১-০৮-২০২৬

দিনমজুর বাবার সাথে কৃষি জমিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে অভাব-অনটনের মধ্যেই জিপিএ ৫ পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধণিরাম গ্রামের পলাশ চন্দ্র রায় নামে এক মেধাবী শিক্ষার্থী। ভুমিহীন বাবা সুধাংশু চন্দ্র রায় তার পিতার রেখে যাওয়া ৫শতক জমিতে অপর তিন ভাইয়ের সাথে ঠাসাঠাসি করে টিনের চালা তৈরি করে মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়ে তুলেছেন।
প্রতিদিনের দিনমজুরীর উপর চলে এক ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে ৪জনের সংসার। কাজ থাকলে পেটে খাবার জোটে। কাজ না থাকলে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। এমন অভাব-অনটনের সংসারে যেখানে দু-মুঠো খাবার জোটাতে হিমসীম অবস্থা, সেখানে সেই পরিবারের দিনমজুর সন্তানের জিপিএ ৫ পাওয়া অলিক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই অসম্ভব ও অলিক স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিয়েছে মেধাবী পলাশ চন্দ্র রায়।
চলতি এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নে অবস্থিত বড়ভিটা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাফল্যের সাথে জিপিএ ৫ পেয়েছে পলাশ। এই বিদ্যালয় থেকে এবার ৭২জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। কৃতকার্য হয়েছেন ৫৫ জন। এরমধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৩ জন শিক্ষার্থী। তবে দারিদ্রতার কারণে তার আগামী দিনের উচ্চ শিক্ষার খরচ চালানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেশী বীথি রানী বলেন, পলাশ আমাদের প্রতিবেশী। তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। সে ভালোমতোন পড়তে পারেনি, খেতে পারেনি। তার ঠিকমতো কাপড়-চোপড় ছিল না। স্কুলে প্রাইভেটের কোন সুযোগ পায়নি। অথচ ওর রেজাল্ট খুব ভালো হয়েছে। ওযে ভবিষ্যতে কলেজে ভর্তি হবে সেই অর্থ দিতে পারবে না তার পরিবার। এখন কেউ যদি ওকে সাহায্য করে তাহলে তার ভবিষ্যৎ জীবনটা সুন্দর হবে।


প্রতিবেশী মকবুল হোসেন বলেন, আমাদের এখান থেকে প্রায় ২৫জন পরীক্ষা দিয়েছে। সবার অবস্থা মোটামুট স্বচ্ছল। পলাশের পারিবারিক অবস্থা খুবই নাজুক। এই পরিস্থিতিতে সে কিভাবে জিপিএ ৫ পেল এটাই অবাক করার বিষয়। তবে পলাশ নিজে চেষ্টা করে গেছে। তার রেজাল্টে আমরা সবাই খুশি কিন্তু খুশি হয়ে লাভ কি! ওযে পরবর্তীতে কলেজে যাবে সেখানে পড়ার মত সামর্থ তাদের নাই। তার পাশে কে দাঁড়াবে। সরকার থেকে যদি সাহায্য করা হয় তাহলে হেয়তো পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারবে সে।
পলাশ চন্দ্র রায় জানায়, আমার এ পর্যন্ত আসার পথটা সহজ ছিল না। অভাবের সংসারে বাবা-মার পক্ষে আমার পড়ালেখার খরচ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। আমি যখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, তখনই টাকার অভাবে আমার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ায় উপক্রম হয়েছিল। আমি বাবার সাথে কখনো অন্যের জমিতে ও রাস্তায় দিনমজুরি করে টাকা রোজগার করতাম। আমার রোজগারের কিছু টাকা সংসারের কাজে খরচের পাশাপাশি নিজের লেখাপড়ার জন্য জমা করতাম। এভাবেই আমি চালিয়ে যাই পড়ালেখা। বাবা-মা ও স্যাররা আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। আমার স্বপ্ন আমি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই। আমি চাই লেখাপড়া শেষ করে মানুষের সেবা করতে। সবাই আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন।


পলাশের মা পূর্ণিমা রাণী ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছেন চরম উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে হাত পেতে সাহায্য নিয়ে ছেলেকে পড়াশুনা করিয়েছি। অভাবের কারণে ওর বাবা লেখাপড়া করাতে ইচ্ছুক নয়। তার চেয়ে দিনমজুরী করে পরিবারকে সাহায্য করতে বলে সে। ছেলে পড়তে চায় আমিও ছেলেকে পড়াতে চাই কিন্তু একদিকে সংসারের অভাব-অনটন, অপরদিকে ছেলের পড়ালেখা, দুই দিক সামাল দিতে পারছি না। সহায়তা না পেলে ছেলেটার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে, এটা ভাবলেই বুকটা ফেঁটে যায়।
পলাশের বাবা সুধাংশু চন্দ্র রায় জানান, আমি দিন করি দিন খাই, আমার কোন সামর্থ নাই। তারপরও আমার ছেলেটা খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। আমি বাদ দিতে বলছি, সে বাদ দেয় নাই। অনেক কষ্টে ছেলেটা লেখাপড়া করিয়া পরীক্ষায় পাস করছে। আমি সবার কাছে সাহায্য চাই ছেলেটা যেন লেখাপড়া করতে পারে।
বড়ভিটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘পলাশ চন্দ্র রায় অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান। তার বাবা দিনমজুর। পলাশের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় সে এবার জিপিএ ৫ পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তার ভবিষ্যৎ লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বৃত্তবানরা পাশে দাঁড়ালে তার পড়াশুনার পথ সুগম হবে। #

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর