মোহাম্মদ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধমুক্ত কুলিয়ারচর গড়ার প্রত্যয়ে ইউনিয়নভিত্তিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্ব। এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ১নং গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে মাদক প্রতিরোধ ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
গতকাল ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরিফ, অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, গোবরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহসিন রানা বাদল, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাসুদ রানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুখলেছুর রহমান, যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক রফিক হাসান, ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করে। মাদকাসক্তির ফলে পারিবারিক কলহ, চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ, সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “কিশোরগঞ্জ জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি কিংবা তাদের সহযোগীকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।” তিনি স্থানীয় জনগণকে মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং তথ্যদাতাদের পরিচয় সর্বোচ্চ গোপন রাখার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, সমাজের সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন। অপরাধী যে দলেরই হোক কিংবা যত প্রভাবশালীই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।” তিনি বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও বিকল্প সুযোগ সৃষ্টি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
সভায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দারা কুলিয়ারচরকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সকল ধরনের অপরাধমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম ও ওয়ার্ডে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক এবং যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার দাবি জানান।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুলিয়ারচর একদিন মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। সভা শেষে উপস্থিত সবাই মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply