কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্বতারাপাশা এলাকার ব্যবসায়ী মো. রুমেল ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দুই ভাই ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর থানাধীন একরামপুর বিওসি মোড় এলাকায় রুমেল ও তার ভাই প্রায় ২০ বছর ধরে তাদের পিতার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং ও যন্ত্রাংশ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং স্থানীয়ভাবে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এর আগে তাদের বিরুদ্ধে কখনো চাঁদাবাজি বা এ ধরনের কোনো অভিযোগ ওঠেনি।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে একই এলাকার বাসিন্দা তৌহিদ মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর থানায় রুমেল ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে রুমেল ও তার ভাই বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ ও ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার জেরে তাদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে একরামপুর বিওসি মোড়ের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তাদের জানা মতে রুমেল ও তার ভাই কখনো তৌহিদ মিয়ার কাছে কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করেননি। তারা অভিযোগটিকে অবিশ্বাস্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন।
মায়ের দোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, সোলেমান ওয়ার্কস, সোহান ইঞ্জিনিয়ারিং, সোহান আয়রন, অয়ন মটরস, এক্সপার্ট চটি ইঞ্জিনিয়ারিং, নয়ন ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রভাত আই.পি.এস., মাসুদ ইঞ্জিনিয়ারিং, রাজন ইঞ্জিনিয়ারিং, শাহিন মটরস, জিন্নাম টাইলস, বি.এম. ইঞ্জিনিয়ারিংসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ একত্রিত হয়ে বলেন, “চাঁদাবাজির এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও সাজানো। একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ী দুই ভাইয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে এ অভিযোগ উত্থাপন করেছে।”
তারা আরও বলেন, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকে রুমেল ও তার পরিবার সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন এবং তাদের ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, “কোনো ব্যক্তি যেন ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আইনকে ব্যবহার করে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের সতর্ক দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন। অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।”
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় অভিযোগকারী তৌহিদ মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযোগের সত্যতা এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।

Leave a Reply