মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগে চলমান নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে চিকিৎসা অবহেলা, দায়িত্বহীনতা, ভুল চিকিৎসা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং তদারকির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়।

এ বিষয়ে ১৬ মে ২০২৬, শনিবার সকাল ১১টা ১৭ মিনিটে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মতিউর রহমান-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে মঠবাড়িয়ার স্বাস্থ্যখাতে চলমান নানা অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হলে তিনি বারবার স্পষ্ট উত্তর এড়িয়ে যান এবং পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া, তদন্ত কার্যক্রম বা দৃশ্যমান পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মঠবাড়িয়ায় স্বাস্থ্যসেবার নামে এক ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় রোগীরা প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। কোনো দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেই অভিযোগ রয়েছে—ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও রোগীপক্ষের মধ্যে দ্রুত “ম্যানেজ” প্রক্রিয়া শুরু হয়। অধিকাংশ ভুক্তভোগী পরিবার গ্রামের সহজ-সরল ও আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় আইনি প্রতিকার বা অভিযোগ করার সুযোগ ও সচেতনতা থেকেও বঞ্চিত থাকেন।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply