কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (খণ্ডকালীন) মোঃ জোনায়েদ হোসেন (জুয়েল)-এর চাকরিচ্যুতি সংক্রান্ত অভিযোগ দাখিলের প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এখনো তদন্ত কার্যক্রমের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক প্রতিকারের আশায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে বাধা, অপমান ও বিধিবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ এনে তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
তবে অভিযোগের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক আবেদন, স্মারকলিপি ও অনুস্মারক জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পত্রে বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো সেই নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিক্ষামহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একটি অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি ও জবাবদিহিতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
মোঃ জোনায়েদ হোসেন (জুয়েল) বলেন, “দীর্ঘ ২১ বছর ধরে আমি এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সম্মান ও পেশাগত পরিচয়। আমি মনে করি, সেই অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান চাই।”

তিনি জানান, চাকরি হারানোর পর থেকে পরিবার নিয়ে আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে বিষয়টির নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কোনো শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি বা অপসারণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুসরণ করা আবশ্যক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা শিক্ষা প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
বর্তমানে অভিযোগটির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা উপদেষ্টা ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মোঃ জোনায়েদ হোসেন (জুয়েল)।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই অভিযোগের সুরাহা কবে হবে, সে প্রশ্ন এখন সংশ্লিষ্ট মহলের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply