সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | ১৪ মার্চ, ২০২৬
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘোষিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ‘লোক দেখানো’ কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে ধুমধাম করে কাজ শুরু হলেও, তিনি চলে যাওয়ার পরপরই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
কর্মসূচির বিবরণ
শনিবার সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়:
সকাল ১০:০০টা: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়।
সকাল ১০:১৫টা: সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন।
পরবর্তী পরিকল্পনা: নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সভা এবং দিনব্যাপী শহরজুড়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
বাস্তব চিত্র: ‘ফটোসেশন’ শেষে স্থবিরতা
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকসহ অতিথিরা হাসপাতাল ত্যাগ করার পরেই শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা কাজ বন্ধ করে দেন। সরেজমিনে দেখা যায়:
ছবি তোলাতেই সীমাবদ্ধ: অভিযানে অংশ নেওয়া অনেকের মনোযোগ ছিল কাজের চেয়ে ছবি তোলায় বেশি।
অপরিচ্ছন্ন ড্রেন: হাসপাতালের ড্রেনগুলোতে জমে থাকা ময়লা পানি ও বর্জ্য অপসারণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
রোগীদের ক্ষোভ: হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা জানান, ড্রেনের জমে থাকা পানিতে নিয়মিত মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। একদিনের লোক দেখানো অভিযানের বদলে তারা স্থায়ী পরিচ্ছন্নতা দাবি করেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন:
”ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। আমরা প্রতি শনিবার এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছি এবং এটি ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।”
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:
সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলাম।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত।
জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।
বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ শাহীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
Leave a Reply