শহীদুল ইসলাম, প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা শহরের বিভিন্ন বিপণি বিতানগুলোতে এখন চলছে শেষ সময়ের ব্যস্ততা। আগামীকাল শুক্রবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে আগামী বুধবার বিজয়া দশমী পর্যন্ত চলবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পূজার কেনাকাটা মহাঅষ্টমীর মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
তারাগঞ্জে শেষ সময়ে শাড়ির দোকানগুলোতে ভিড় করছেন নারীরা। বেচাকেনা চলছে অন্যান্য পোশাকের বাজারেও। বিক্রেতারা বলছেন, মহালয়ার পর থেকেই পূজার কেনাকাটা চলছে। গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ক্রেতারাও স্বচ্ছন্দে নিজেদের পছন্দমতো পণ্য কিনতে পারছেন।
পূজা উপলক্ষে কেনাকাটায় বিশেষ ছাড় দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পণ্যে বৈচিত্র্য এনেছে ফ্যাশন হাউজগুলো। তারাগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে ৩০% থেকে ৬০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দেওয়া হচ্ছে।
নারীদের পোশাকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সালোয়ার কামিজ, জামদানি শাড়ি, রাজশাহী সিল্ক, বলাকা সিল্ক, কাতান শাড়ি, লেহেঙ্গা ও তাঁতের শাড়ি। ছেলেদের জন্য রয়েছে বাহারি ডিজাইনের ধুতি, শর্ট পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট ও প্যান্ট। স্বল্প আয়ের মানুষ কেনাকাটা করছেন ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলো থেকে।
বাজার ঘুরে পূজা উপলক্ষে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে কাপড়ের মার্কেটে বেশি ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। আশেপাশের উপজেলাগুলো থেকেও ক্রেতারা তারাগঞ্জ বাজারে কেনাকাটা করতে আসছেন।
পূজা উপলক্ষে দর্জির দোকানগুলোতেও ব্যাপক ক্রেতাসমাগম হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা থেকে সমৃদ্ধি স্বস্তি দাস তার মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করতে এসেছেন। বিভিন্ন দোকানে ঘুরে ঘুরে নিজের এবং পরিবারের সবার জন্য শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, প্যান্ট ও শার্ট কিনছেন।
তিনি বলেন, ‘বাবার জন্য জামা-প্যান্ট কিনেছি ২৩০০ টাকায়। দাদুর জন্য ৮০০ টাকায় ফতুয়া কিনেছি। আগেই ঠাকুমা এবং ছোট বোনের জন্য প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকার কেনাকাটা করা হয়েছে। মায়ের জন্যও শাড়ি কিনেছি দুটি। তবে গত বছরের তুলনায় দাম একটু বেশিই মনে হয়েছে।’
তারাগঞ্জ উপজেলার পাশের সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের দাশপাড়ার বাসিন্দা পলাশ দাশ কেনাকাটা করতে এসেছেন চার বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি দৈনিক আজকের বসুন্ধরার এই প্রতিনিধিকে বলেন, ‘গতকাল প্রায় সাত হাজার টাকার বিভিন্ন রকমের পোশাক কিনেছি পরিবারের সব সদস্যের জন্য। আর এখানে আমার স্ত্রীর জন্য ২২০০ টাকার একটি কাতান শাড়ি কিনেছি। ছেলের জন্য প্যান্ট এবং শার্ট কিনেছি ১৮০০ টাকা দিয়ে এবং তিন বছরের মেয়ের জন্য একটি হাতাকাটা জামা কিনেছি ৮০০ টাকা দিয়ে।’
নারীরা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন চুড়ি, গলার হার, আংটিসহ নানারকম অলঙ্কার। পোশাকের পাশাপাশি মেয়েদের জুয়েলারি, সিঁদুর, চুড়িসহ অন্যান্য অনুষঙ্গ বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন দোকানিরা। মেয়েদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছেলেরাও বিভিন্ন রকমের জুতা-স্যান্ডেল কিনছেন।
Leave a Reply